✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
১৩ বছর আগে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ঢাকাতেই ৩২ জনের প্রাণহানির তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।
রোববার (৩ মে) এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ ঘটনায় এরইমধ্যে আমরা ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছি। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে সময়কার সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বা পুলিশের যারা জড়িত রয়েছেন, কিংবা অর্থের জোগান দিয়েছেন; তাদেরও আসামি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের এ মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও শিগগির সম্পন্ন করতে পারবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হক-এর পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই পৃথক মামলায় ইতোমধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১৩ বছর আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে আলোচনায় আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, নারী নীতির বিরোধিতা এবং ১৩ দফা দাবি তুলে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলামের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির অভিযানে এলাকা খালি করা হয়।
