✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ডিপ ড্রিলিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোপেক কনট্র্যাক্টিং অ্যান্ড ড্রিলিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি)।
গতকাল সোমবার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় চোখে পড়ে ব্যস্ত এক কর্মযজ্ঞ। বিশাল ড্রিলিং রিগ অবিরাম ঘুরছে, চারপাশে দেশি ও চীনা কর্মীদের সমন্বিত কাজ। ধাতব শব্দ আর যন্ত্রের কম্পনে মাটির গভীরে লেখা হচ্ছে সম্ভাবনার হিসাব।
দেশে আগে সর্বোচ্চ ৪৯০০ মিটার পর্যন্ত কূপ খননের রেকর্ড রয়েছে। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার বা প্রায় ১৮ হাজার ৩৭২ ফুট গভীর পর্যন্ত যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই গভীর স্তরে বড় গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা থাকে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, এই কূপ খনন শেষে একই রিগ ব্যবহার করে বাখরাবাদেও আরেকটি কূপ খনন করা হবে। দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৪ কোটি টাকা। সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা কাগজে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও, বাস্তবে তা ৫০০ কোটির কাছাকাছি। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে নতুন মজুত পাওয়া গেলে তা জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিতাস-৩১ কূপ খননে সময় ধরা হয়েছে ২১০ দিন। গত ১৯ এপ্রিল শুরু হওয়া কাজের প্রায় ২২ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে বাখরাবাদ-২১ কূপ খননে সময় লাগবে প্রায় ১৮০ দিন। খনন শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। উপযোগী হলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
তিতাসের তিন হাজার ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার মধ্যেই গ্যাসের সম্ভাবনা বেশি। তিতাসের এই গভীরতায় চারটি সম্ভাবনাময় স্তর চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম স্তর তিন হাজার ৭৩৬ থেকে তিন হাজার ৭৬৫ মিটার গভীরে এবং শেষ স্তর ৫৩১৫ থেকে ৫৩৪৪ মিটারে। মাঝের দুটি স্তরও সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গভীরতার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। তিতাসে তিন হাজার ৭৫০ মিটার পার হলেই উচ্চচাপের এলাকা শুরু হয়। এই চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে পুরো খনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার ব্যবহার করা হচ্ছে ১৫ হাজার পিএসআই সক্ষমতার ব্লো-আউট প্রিভেন্টর, যা আগের প্রযুক্তির তুলনায় উন্নত। পুরো প্রকল্পটি চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি বাস্তবায়ন করছে, যাদের গভীর কূপ খননে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
