ঈদের পর রদবদল, কলেবর বাড়ছে মন্ত্রিসভার

✍︎ বিশেষ প্রতিনিধি ✍︎

।ঈদুল আজহার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বড় মন্ত্রিসভা আরও বড় হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও কলেবর বাড়ার খবর সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। এর মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজের মন্ত্রণালয়ে আহমেদ আজম খানকে মন্ত্রী পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কয়েকজন উপমন্ত্রীর পদও সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত একজন সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে।

বর্ধিত মন্ত্রিসভায় যাদের দেখা যেতে পারে

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত এমপি সেলিমা রহমানও পেতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রির দায়িত্ব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখনও সরকারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও আছেন একই আলোচনায়।

এখনও টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন এমপি মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাকে এখনও কোথাও নিযুক্ত করা হয়নি। তাকে ঘিরে বেশ আলোচনা রয়েছে। আলাল দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু। তিনিও মনোনয়নবঞ্চিত ছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য সবশেষ ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বিন্যাস করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্য প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো হতে পারে।

২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *