তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের অনুমতি পেলেন বিজয়

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করছে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে এবং বামপন্থীদের দুই দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছে তারা।

শুক্রবার বিকেলে দলগুলো টিভিকেকে সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চার দিন ধরে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে চলা নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে।

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ বিধায়কের সমর্থন।

এ পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে আধিপত্য ধরে রাখা দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ই শেষ হাসি হাসছেন। কংগ্রেস আগেই টিভিকেকে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছিল। শুক্রবার দুপুরে বিজয়ের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় সিপিআই, সিপিএম ও স্থানীয় দল ভিসিকে। তিন দলই দুটি করে আসন জিতেছে। ফলে বিজয়ের পক্ষে ১১৮ জনের সমর্থন নিশ্চিত হয়।

থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার খবর প্রকাশের পর তাঁর চেন্নাইয়ের বাড়ির সামনে সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ‘টিভিকে, টিভিকে’ স্লোগানে মুখর করে তোলেন তাঁরা। বিজয় এখন সরকার গঠনের অনুমতির জন্য তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের কাছে যাবেন। সেটা আজ সন্ধ্যায়ই হতে পারে বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।

সরকার গঠনের আরজি নিয়ে বিজয় এর আগে তিনবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় সমর্থনের চিঠি দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, ১১৮ জনের সমর্থন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে সরকার গড়ার সুযোগ দিতে রাজি নন তিনি। রাজ্যের রাজনীতিবিদদের অনেকের ধারণা, এই ক্ষেত্রে বিজেপি রাজ্যপালের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছিল।

বিজয়কে রুখতে রাজনৈতিক বৈরিতা দূরে সরিয়ে তামিল রাজনীতির দুই প্রতিষ্ঠিত দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে কাছাকাছি আসতে উদ্যোগী হয়েছিল। তাদের রুখতে বিজয় ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজ্যপাল যদি একক বৃহত্তম দলের দাবি অগ্রাহ্য করে অন্যদের সরকার গড়তে উৎসাহী করে তোলেন, তা হলে টিভিকের ১০৭ বিধায়কই একযোগে পদত্যাগ করবেন।

বিজয়কে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে সাহায্য করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস এই রাজ্যে অনেক বছর ধরেই ডিএমকের জোটের শরিক। এবারও তারা ডিএমকের সঙ্গে জোটবদ্ধ থেকেই ভোটে লড়েছে এবং পাঁচটি আসন জিতেছে। কিন্তু ভোটের আগে থেকেই দুই দলের নেতাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। অতীতে কংগ্রেস সরকারের শরিক হওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এবার তারা সেই দাবি জানিয়েছিল, যদিও ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন তা মেনে নেননি।

ফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কংগ্রেস সমর্থন জানিয়ে দেয় টিভিকেকে। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেস শর্ত দিয়েছে, বিজয় ও টিভিকে ‘সম্প্রদায়িক দলগুলোর’ সঙ্গে জোট করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে বিজেপিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যারা তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকের জোটসঙ্গী।

বিজয়কে সমর্থনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক তিক্ততর হয়েছে। ডিএমকে নেতারা এমন কথাও বলেছেন, কংগ্রেস তাদের পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। শুক্রবারেই ডিএমকে নেত্রী ও সংসদ সদস্য কানিমোঝি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের জোট ভেঙে গেছে। তাই লোকসভায় ডিএমকে সদস্যদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হোক।

কংগ্রেসের মতো সিপিআই ও সিপিএমও ছিল ডিএমকের সঙ্গী। দুই দলই এবার দুটি করে আসন জিতেছে। দুই বামপন্থী দলই সরকার গড়তে বিজয়ের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। আর একটি স্থানীয় দল ভিসিকে। তাদেরও আসনসংখ্যা ২। এর বাইরে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ থেকে নির্বাচিত দুই বিধায়কের একজনের সমর্থন পাচ্ছেন বিজয়। এ ছাড়া স্থানীয় আরেক দল আম্মা মক্কল মুনেত্রা কাজাগাম থেকে নির্বাচিত একজন বিধায়কেরও সমর্থন পাচ্ছেন বিজয়। সব মিলিয়ে এখন তাঁর পক্ষে আসছে ১২১ আসন।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনটিভি জানিয়েছে, থালাপতি বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকারে একজন করে মন্ত্রী পাবে সিপিএম, সিপিআই ও ভিসিকে। আর কংগ্রেস দুই মন্ত্রী পদ আশা করছে।

ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়।

১১৮ জন বিধায়কের প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার প্রমাণপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়ার পরপরই তিনি সরকার গঠনের সবুজ সংকেত পান।

২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল টিভিকে-র নিজস্ব বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। শুক্রবার কংগ্রেসের ৫ জন, সিপিআই-এর ২ জন, সিপিআই (এম)-এর ২ জন এবং ভিসিকে-র ২ জন বিধায়ক বিজয়ের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ঠিক ১১৮।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *