✍︎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ✍︎
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম মো. মোরসালিন (২২)। তিনি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত মোরসালিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে স্থানীয় কয়েকজন এসে মোরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর সীমান্তের ভারত অংশে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মোরসালিন। পরে তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম জানান, বিএসএফ কমান্ডেন্টের সাথে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানোসহ পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশে ভারতের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় যান। পরে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের বাধা দেয়। সে সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে দুটি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে বাংলাদেশি মো. মুরসালিন (২০) ও অপর ব্যক্তি নবীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ বিজিবিকে নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে কাজ চলছে। বিএসএফকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, দুজনের লাশ বিএসএফের কাছে আছে। লাশ দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে বিজিবির সদস্যরা কাজ করছেন।
