✍︎ গাজীপুর প্রতিনিধি ✍︎
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন।
শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -ওসি শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় পাঁচজনকে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন—অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৩২), শ্যালক রসুল মিয়া (২২), মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের মোবাইল করে খুনের কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শনিবার সকালে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বাড়ির গৃহকর্তা ফুরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, তার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা সেটা তদন্ত চলছে। ফুরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। পাঁচটি লাশের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগ। সেটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা হয়েছে। পাঁচটিই একই অভিযোগের কপি। সেই অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে কি না বা দিলেও গ্রহণ করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান।
লাশের ওপর রাখা কাগজে মুদ্রিত সেই অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এ ছাড়া খালাতো ভাই রাজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। ৫ মে স্ত্রী শারমিন খানম ও তাঁর কথিত প্রেমিক রাজু আহমেদ স্বামী ফোরকানকে বেধড়ক মারধর করেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচটি লাশের ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি রয়েছে। সেটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা। সেই অভিযোগপত্রটি গোপালগঞ্জ থানায় গ্রহণ করা হয়েছে নাকি এটি শুধু চিরকুট—তা যাচাই-বাছাই হচ্ছে।
