✍︎ হাতিয়া প্রতিনিধি ✍︎
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার ৫২ বছর পর এলাকায় ফিরে এসেছেন ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩)। গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে আসেন তিনি।
মৃত ভেবে যাকে পরিবার বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছিল, সেই ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) বৃদ্ধ বয়সে আবারও ফিরে পেয়েছেন নিজের ভিটেমাটি ও স্বজনদের।
নিখোঁজ হওয়ার ৫২ বছর পর ফিরে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় শুক্রবার হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বৃদ্ধের ছেলে মো. আকরাম (৫৩)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় আর বেঁচে নেই তিনি।
দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান ছৈয়দ আহাম্মদ। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) উদ্ধার করে তাকে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পাঠানো হয় বাংলাদেশে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে হাতিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ছৈয়দ আহাম্মদ। বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে বিস্মিত হন অনেকেই। পরে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা শনাক্ত করেন তাকে। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা।
তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটি অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বলে মন্তব্য করেছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেছেন, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন তার বাবা ফেরত আসার পর তার চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তার কাছে থাকার জন্য বলেছেন। তবে তার চাচাতো ভাইয়েরা তার কাছে থাকতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন তিনি।
