✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে শুরু করেছে ব্যাপক সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি। দলীয় সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার পরপরই সাংগঠনিক পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
দলীয় আলোচনা ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘবছর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সংবাদ সম্মেলন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সামনের সারিতে রয়েছেন। বিশেষ করে কঠিন সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে তার ভূমিকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। ফলে তাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে আলোচনায়।
তবে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা দলীয় নেতৃত্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। যদিও বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দল ও সরকারের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সক্রিয় এই নেতা দলের শীর্ষ মহলের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে তার ভূমিকা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে তুলনামূলক কম সক্রিয়তা তাকে কিছুটা পিছিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আলোচনায় উঠে এসেছে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়। কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় তার দক্ষতা দলীয় মহলে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় আলোচনায় রয়েছেন হাবিব উন নবী খান সোহেলও। ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এ নেতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ দৃঢ় বলে মনে করা হয়। দল যদি তৃণমূলকেন্দ্রিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া মিডিয়ায় বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আলোচনায় আছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যদিও সরাসরি সাংগঠনিক কার্যক্রমে সীমিত সম্পৃক্ততার বিষয়টি তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষে চমক হিসেবে ঘুরছে খায়রুল কবির খোকনের নামও। সংগঠক হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে এখনো বড় প্রভাব তৈরি করতে পারেননি তিনি। তবে দল যদি বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে, তাহলে নতুন সমীকরণে তার নামও সামনে চলে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলন শেষে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এই পদটিতে এর আগে তারেক রহমান বহাল ছিলেন। তারেক রহমান এই সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ লাভ করেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং মির্জা ফখরুল বিরোধী দলীয় মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান।
২০১১ সালের ২০শে মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা এই মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কেউ কেউ বলেন বিএনপির সংবিধানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কোন বর্ণনা নেই। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ২১ মার্চ ২০১১ তারিখে সৌদি রাজপরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব যাবার আগমুহুর্তে মির্জা ফখরুলকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করে গেলে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।
