✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ঈদুল আজহার পর দেশব্যাপী হামের টিকার দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রমের এক যুগপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার দ্রুতগতিতে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করে। এরই মধ্যে প্রথম ডোজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক শিশুর। অনেকে আবার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছে। কোরবানির ঈদের পর হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্তে মাইকিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে কোনো সংকট নেই, প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে। বাসায় বাসায় গিয়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
টিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, টিকার কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে কিছু সিরিঞ্জের ঘাটতি রয়েছে। তবে মাসিক চাহিদা অনুযায়ী নতুন সিরিঞ্জ আসছে এবং সারা দেশে সরবরাহ বাড়ানো হবে।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
হাম ও উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) হাম উপসর্গে মারা গেছে ৯ শিশু। এসময় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ৬৬ দিনে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯৮ জনে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৭ জন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে যে ৯ শিশু মারা গেছে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩ জন, সিলেট বিভাগের ৩ জন, চট্টগ্রামের ১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন এবং খুলনা বিভাগের বাসিন্দা ১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৬৪ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনকে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৭৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬৬ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৫৮৬ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৮৩ জনকে। আর একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৯ জন।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১ হাজার ১১০ রোগীসহ এখন পর্যন্ত হামের চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪০ হাজার ৯০ জন রোগী।
