✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন এবং রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের পড়ালেখাসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ধৈর্যসহকারে রামিসার বাবার কথাও শোনেন তিনি।
তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপের পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি খণ্ডবিখণ্ড করা হয়। হত্যার পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। তবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতরেই ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। সোহেল রানা গতকাল ঢাকার আদালতে এই ঘটনায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। এ ঘটনায় নানা মহল থেকে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও হয়েছে এবং রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর বাইরেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের মানুষ। এর মধ্যে নোয়াখালীতে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। শিশু রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠনের ব্যানারেও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান বক্তারা। গতকাল বুধবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিবৃতি দিয়ে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।
