✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বিতর্কিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় খোবাইব নামের ২০ বছরের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানির জন্য সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে হুইলচেয়ারে করে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক গ্রেফতার দেখানোর এই আদেশ দেন। ১৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. ইব্রাহিম খলিল গ্রেফতার দেখানোর এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে কয়েক দফায় সাত মামলায় জামিন পান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে খায়রুল হককে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
এই মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)। যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলে মারা যান। এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তির ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না দেখানো এবং হয়রানি না করার জন্য হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুলও জারি করেন আদালত।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে।আছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুদকের করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আবেদনগুলো গত ৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল থাকে।
তবে ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় ১২ মে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এই জামিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত বহাল রেখেছেন। এর মধ্য দিয়ে সাত মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রয়েছে।
