দুই মাস বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

আরও দুই মাস বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। এ বিষয়ে দুপক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যস্থতাকারীদের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে শনিবার (২৩ মে) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। একই সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কাঠামোও নির্ধারণ করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করা বা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকেরা অনেক কাছাকাছি চলে এসেছেন। শনিবার (২৩ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র লাভ করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে এবং ইরানের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যাতে সন্তোষজনক উপায়ে সামাল দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি কেবল এমন একটি চুক্তিতেই স্বাক্ষর করব, যেখানে আমরা যা যা চাই তার সবকিছুই পাব।’

এর আগে, একই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মাঝে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও বলেছে, প্রায় তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শনিবারই তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরানের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং রোববারের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আমরা একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাব, নতুবা নরকের আগুনে আমি তাদের উড়িয়ে দেব।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করা এবং নিষেধাজ্ঞা কমানোর দিকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে।

এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি নিয়ে এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ আলোচনাকে ভেঙে পড়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে শুক্রবার তেহরানে পৌঁছান পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির। রাতে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংঘাত এড়ানোর বিভিন্ন প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেন বলে আরাগচির টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, ‘সরকারি পরিস্থিতির’ কারণে তিনি ছেলের বিয়েতে অংশ নেবেন না এবং ওয়াশিংটনেই অবস্থান করবেন। এতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জোরাল আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের আলোচনাকে ‘যুদ্ধ ও সমঝোতার মধ্যবর্তী সীমান্তে’ অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সতর্ক করে বলেছেন, আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে কোনো ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা চূড়ান্ত অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে এখনো ‘গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ’ মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *