✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ কারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানাগুলো পুনঃঅর্থায়ন ও পুনরায় চালুর কাজে ব্যবহার করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এই প্যাকেজের মাধ্যমে ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সহায়তা, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানাগুলো পুনঃঅর্থায়ন ও পুনরায় চালুর কাজে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহক পর্যায়ে বড় শিল্পের ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। তবে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। এই তহবিল থেকে বৃহৎ শিল্প, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং কৃষিখাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘোষিত প্যাকেজের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে। সারা দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, সবুজ বিনিয়োগ ও প্রকল্প সম্প্রসারিত হবে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে এবং সৃজনশীল অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ধ এবং আংশিক চালু কারখানার তথ্য সংগ্রহ করেছে।’
কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি শিল্প ইউনিট চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বড় ঋণগ্রহীতাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
কোন খাতে কত বরাদ্দ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে। এ ক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকগুলোর অলস টাকা এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের মাঝে টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া ১৯ হাজার কোটি টাকা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এতে ২ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির আশা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এই খাতে ৯ লাখ কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ খাতের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এই খাতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এবার প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গে কৃষির কেন্দ্র (হাব) গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এক লাখ কর্মসংস্থান করা হবে।
এ ছাড়া ১৯ হাজার কোটি টাকা পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি চলমান আছে। তা একীভূত করে তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল দাঁড়িয়েছে ১০টি।
প্রি-শিপমেন্ট ফাইন্যান্স/প্যাকিং ক্রেডিট খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার। কুটির ও ক্ষুদ্র খাতের জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে ২ লাখ মানুষের। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এ খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ১ লাখ।
বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মকাণ্ডের জন্য আনসার ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এতে কর্মসংস্থান হবে এক লাখ মানুষের।
পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতের জন্য। স্টার্টআপদের অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারকেরা পাবেন ২ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে বাড়তি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার। চামড়া ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
