✍︎ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ✍︎
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা হামলা ও হত্যার হুমকির মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি জোন’ মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা-পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মিলনায়তনের সামনে পৌঁছামাত্রই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকের বিশেষ দল এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে নিরাপত্তা দিতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে তাঁর নামে মামলা থাকায় গ্রেফতার করা হয়ছে। রোববার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন। এর আগে যুবশক্তি নেতা অয়ন রহমানকে আইন মেনেই করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতা তারেক রেজা ছাত্রদলের মামলায় আসামি। তার পরেও তিনি প্রকাশ্যে এসে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে আবারও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করে তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি যেহেতু মামলার আসামি ও আদালত থেকে জামিন নেননি তাই তাঁকে আইনত গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২২ মের ঘটনায় অয়ন রহমানকে গুম করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যশোর থেকে শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পরে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়।গ্রেফতারের পর আইনানুযায়ী রোববার বিকেল ৪টার দিকে ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজ হোসেন বলেন, সদর থানার ওসি তারেক রেজাকে ফোনে বারবার সংবাদ সম্মেলনে যেতে নিষেধ করেন এবং তিনি নিষেধ লঙ্ঘন করে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে যান। তাঁকে বলা হয় নিরাপত্তা দিতে পুলিশের প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সময় দিতে হবে। কিন্তু তিনি কোনো কথা শোনেননি। এ ঘটনায় সেখানে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়, তাই তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতেই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে এনসিপির মামলায় কোনো আসামি গ্রেফতার হয়েছে কি না জানতে চাইলে মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের ছয়জন জামিনে রয়েছেন। এনসিপিরও একজন জামিনে রয়েছেন। তবে আমরা এ ধরনের মামলায় ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করি। তারেক রেজাকে গ্রেফতারের কোনো ইচ্ছা পুলিশের ছিল না। তাঁর নিরাপত্তার জন্যই তাঁকে পুলিশ নিয়ে আসে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসদৃশ বন্তুটি সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এই বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদউজ্জামান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছাব্বিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে (শুক্রবার) ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা করেন। এরই জের ধরে পরদিন শনিবার দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির। ছাত্রদলের দেওয়া ওই মামলাতেই রোববার সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
