✍︎ কূটনৈতিক প্রতিবেদক ✍︎
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিজের প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করে সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ঢাকা ও বেইজিং।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীন সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জুনের ২৩ তারিখ সফরের প্রস্তাব এসেছে বেইজিং থেকে। নোট ভারবালের মাধ্যমে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। খলিলুর রহমানের সফর নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় তাঁর দেশ। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারস্পরিক আস্থা জোরদার, বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগকে যুক্ত করা এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগের মতো খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও নিবিড় করা হবে। তিনি বলেন, সবুজ উন্নয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো উদীয়মান শিল্প খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এমনকি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এমনকি এই সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়াও উচিত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চমৎকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চীন সব সময়ই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বস্ত ও অপরিহার্য বন্ধু এবং অংশীদার। বাংলাদেশের নতুন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে দৃঢ়ভাবে চীনের পাশে আছে বাংলাদেশ। ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও ভুটান থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিতে যাচ্ছেন। এই সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তিটিই মূল আকর্ষণ হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকার নতুন সরকার পানি ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বেইজিংয়ের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই একটি সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন। তবে প্রথম বিদেশ সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সফরের ঘোষণাকে আসন্ন উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত এই তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দিল্লির গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
যদিও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগের মাসগুলোতে ভারত নিজেই এই প্রকল্পে অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে নতুন সরকারের কাছে সেই প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনাধীন আছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার কারণে গত ১৫ বছর ধরে ঝুলে ছিল।
তবে সম্প্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করায় এই চুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন করে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন কিছু পর্যবেক্ষক। তবে দুই পরাশক্তি ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থের মুখে নতুন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
গত মাসে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। প্রতিনিধি দল বেইজিংসহ দেশটির একাধিক প্রদেশ পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও চীন সফর করেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরটি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ত্রিদেশীয় আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয় ছিল চীন। বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করতে ওই সময়ে নানা পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা চালানো হয়। তবে বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি আর বেশি দূর এগোয়নি। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক ফোরামে যুক্ত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ পেতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। যদিও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য, তবু দেশটির বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং যোগাযোগ খাতের একাধিক প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ছাড়া দিয়েছে চীন। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের রফতানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের প্রধান ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। বিশেষ করে আমরা যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করি, তার তুলনায় রফতানি অনেক কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে এ ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে কার্যকর আলোচনা হতে পারে বলে আশা করছি। সরকারপ্রধানদের পর্যায়ে আলোচনায় নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উচিত চীনের বিশাল বাজারে নিজেদের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং ওষুধশিল্পের জন্য চীনের বাজার বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দুই দেশই লাভবান হবে।
সাবেক বাণিজ্য সচিব ড. মাহবুব আহমেদ বলেন, আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে এ সফর মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময়ে চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মো. খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ ঘাটতি কমিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীন মূলত ব্যবসা ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা করে। তাই বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক রফতানির সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশ লাভবান হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র হয়ে চীনে যাচ্ছে, ফলে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। দেখা গেছে, একটি চীনা কোম্পানি ছয় বছর আগে বিনিয়োগ করলেও এখনও গ্যাস সংযোগ পায়নি। তাই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সরকারের সদিচ্ছা ও বাস্তব পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।
খোরশেদ আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। দেশে যখন শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে পারে, তখন চীনা ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভাবা যেতে পারে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সুবিধাজনক হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সঙ্গী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে কুনমিংয়ে একটি বিশেষ বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোড’-এর মাধ্যমে বহু আগে থেকেই বাংলাদেশ ও চীনের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। উপকূলীয় রাষ্ট্র হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগও ছিল সমৃদ্ধ। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সামরিক ও বেসামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তারা মনে করছেন, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগকেন্দ্র হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
