ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

ইরাকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন— উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছোট ছেলে বজলুর রশীদ (৩৮) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে মো. মনোহার আলী (৩৬)।

সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মনোহার আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ধারদেনা করে ইরাকে পাড়ি জমান। দেশটিতে বৈধ কাগজপত্র (আকামা) না থাকায় তারা দুজনে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো গতকালও ভোররাতে কাজ শেষ করে তারা একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

এদিকে দুই যুবকের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো মাদারগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দুই প্রবাসীরই দুটি করে ছোট সন্তান রয়েছে। গৃহকর্তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। 

নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘সংসারে একটু সুখের আশায় অনেক ঋণ করে আমার স্বামী ইরাক গিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি খুব একটা ভালো ছিলেন না। এখন সন্তানদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, আমার সন্তানরা যেন শেষবারের মতো তাদের বাবার মুখটা দেখতে পারে। লাশটা যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’ একই আকুতি জানিয়েছেন নিহত বজলুর রশীদের ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েলও।

বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, শনিবার রাতে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। হঠাৎ তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফোন দিয়ে জানায়, আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।

এই বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে সরকারিভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাদের যেকোনো সহায়তায় পুলিশ প্রস্তুত।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *