যুদ্ধ থামাতে বড় সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎  

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। আলোচনার মধ্যস্থতায় মূল ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান ও কাতার। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কাঠামো এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। 

তিনি জানান, চুক্তির ভাষা নিয়ে এখনও কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যদিও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। 

অন্যদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এখনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া সম্পন্ন হয়নি এবং তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতাকে চূড়ান্ত ধরা হবে না।

চুক্তির মূল বিষয়

১. হরমুজ প্রণালি:
প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে। ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রের মাইন সরিয়ে ফেলবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ শিথিল করবে।

২. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি:
চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না। পাশাপাশি প্রায় ৯৭০ পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া কম মাত্রায় সমৃদ্ধ আরও প্রায় ১০ টন পারমাণবিক উপাদান নিয়েও আলোচনা হবে।

৩. মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের অর্থ:
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের একটি অংশ ছাড় করার বিষয়ও আলোচনায় আছে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা ও পণ্য আমদানির জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

৪. লেবাননের যুদ্ধ:
চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত বন্ধ করা। এই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যেও উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল:
সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ইরানের জন্য একটি বিশাল বিনিয়োগ তহবিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘রেকনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম’ গঠনে সহায়তা করতে পারে। আলোচনায় আরও উঠে এসেছে যে, বড় বড় মার্কিন তেল ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে ইরানে বিনিয়োগ ও যৌথ ব্যবসায় অংশ নিতে পারে।

যেসব সমস্যা রয়েছে

যদিও উভয় পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবুও অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। মূল সমস্যা হলো- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আসলে একই খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়া ইরানের ভেতরে কারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, সেটিও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

মার্কিন পক্ষ বলছে, এটি কেবল ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রেখে আলোচনার সুযোগ তৈরির একটি প্রাথমিক চুক্তি। কিন্তু ইরানি সূত্রের দাবি, এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ‘যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরেকটি বড় মতভেদ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। ইরান বলছে, ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, অবরোধ ধাপে ধাপে শিথিল হবে এবং তা নির্ভর করবে ইরান কত দ্রুত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে পারে তার ওপর।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *