যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের গ্রিন কার্ড অনুমতি প্রার্থী অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রিন কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার পর তার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষারত অভিবাসীদের এখন আর নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না; তারা আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। 

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, বিশেষ কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া অধিকাংশ আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ডের জন্য নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর সেই সাম্প্রতিক নোটিশের পর অভিবাসী সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এমনকি খোদ অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই নির্দেশনার পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে এই ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দেওয়া হলো।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসন নীতিতে কোনো বড় ধরনের বা বাধ্যতামূলক পরিবর্তন আনা হয়নি। অভিবাসন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে ‘কেস-বাই-কেস’ বা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও রেকর্ড পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতেন, সেই আইনি এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব এখনও আগের মতোই বহাল রয়েছে। 

ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্দেশনাটি আসলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনি ক্ষমতাকে পুনর্ব্যক্ত করা মাত্র, এটি ঢালাওভাবে সব আবেদনকারীর জন্য কোনো নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।’ সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিন কার্ডপ্রার্থী অধিকাংশ বৈধ অভিবাসীকেই তাদের পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে মার্কিন প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে ‘ভিসা ওভারস্টে’ (অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা) বা অন্য কোনো গুরুতর অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানির ভিত্তিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কোন কোন সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে, সে বিষয়ে ডিএইচএস এখনও বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেনি।

হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টিকে একটি ‘রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি বাইডেন প্রশাসনের কোনো নতুন বা কঠোর অভিবাসন কৌশলের অংশ নয়।

সরকারের এই সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে লাখ লাখ গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অভিবাসী, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন, তাদের ওপর থেকে সাময়িক বহিষ্কারের বড় একটি শঙ্কা কেটে গেল।  

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *