আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

রোববার পরিচালিত এ অভিযানে হাসপাতালের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। এর পর নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় ২ লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। অভিযানে সিটি করপোরেশনের সহকারী পরিচালক, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে বেশকিছু অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এসব বিষয় আমলে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।

হাসপাতালের উপরে অপরিচ্ছন্ন বেকারি থাকার যে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমরা বেকারিটি বন্ধ পেয়েছি। হাসপাতালের ভবন থেকেই আমরা বেকারির ভিতরে প্রবেশ করেছি। একই ভবনে আমরা এটি দেখতে পেয়েছি।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যমে ওই অপরিচ্ছন্ন বেকারিটি হাসপাতালের উপরে থাকার কথা প্রকাশের পর। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, এই বেকারিটি হাসপাতালের ভবনে নয় বরং পাশের ভবনে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু : বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে নোটিশ

দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা সেবার মান যাচাই, অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সংঘটিত ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রের কর্তব্য জনগণের জন্য নিরাপদ, মানসম্পন্ন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার মান, বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউ এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি।

নোটিশে জনস্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে :

১। দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা।

২। ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর লাইসেন্স, অনুমোদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অগ্নিনিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা।

৩। আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউসহ সব ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ও সার্বিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।

৪। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বৈধ নিবন্ধন, পেশাগত যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যাচাই করা।

৫। অনুমোদনবিহীন, মানহীন অথবা প্রতারণামূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৬। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সংঘটিত ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একজন হাইকোর্ট ডিভিশন-এর বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা।

৭। তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৮। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উপরোক্ত বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রতিকার, জনস্বার্থে রিটআবেদনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *