আবারও বাড়ল পেট্রল–অকটেন-কেরোসিনের দাম

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

৪২ দিনের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়িয়েছে সরকার। জুন মাসের জন্য পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন মূল্য অনুযায়ী ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫, পেট্রল ১৪০ ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারণ করা মূল্য অনুযায়ী মে মাসের তুলনায় অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ল। তবে ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা ও অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা ও কেরোসিনের ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ৩০ এপ্রিল জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে মে মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে মে মাসজুড়ে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০, অকটেন ১৪০ ও পেট্রল ১৩৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। দেশেও তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন বাড়তে থাকে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার এক দিন পর গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য বলছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই মুহূর্তে তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও অস্থিরতা চলছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি -এর মে ২০২৬-এর ‘অয়েল মার্কেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। আইইএ জানায়, মার্চ ও এপ্রিলে বৈশ্বিক তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (ইআইএ) -এর মে ২০২৬-এর ‘শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুক’ রিপোর্ট অনুযায়ী, সরবরাহ ঘাটতি ও রিফাইনারিগুলোর ওপর চাপের কারণে মে ও জুন মাসজুড়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০৬ মার্কিন ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। 

এর আগে মার্চ-এপ্রিলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ ১২০ থেকে ১৪৪ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল।

অন্যদিকে কমার্জব্যাংক এবং জেপি মরগানের বৈশ্বিক কমোডিটি কৌশলগত পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির দীর্ঘায়িত প্রভাব ও বৈশ্বিক মজুত কমে যাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ থেকে ১০৫ ডলারের উচ্চ সীমায় স্থিতি পেতে পারে।

সরবরাহ লাইনের এই ঘাটতির প্রভাব সরাসরি এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর পড়ছে বলেই সংবাদ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *