শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২৮ জনকে সরিয়েছে বিএসএফ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘিয়া-আনারপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনের উদ্দেশ্যে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২৮ জনকে অবশেষে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

তীব্র ঝড়বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখার পর শুক্রবার (৫ জুন) তাদেরকে ভারতীয় সীমান্তের ৫০ গজ অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

১৬ বিজিবির (নওগাঁ ব্যাটালিয়ন) সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও মানবিক সংকট নিরসনে শুক্রবার সকালেও ঘুঘিয়া আনারপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আগের বৈঠকগুলোর মতোই এই বৈঠকটিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার জন্য তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার পর জিরো লাইনে চরম মানবিক বিপর্যয়ে থাকা ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬টি শিশুকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

এদিকে বিএসএফের এই পুশ ইন চেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজিরবিহীন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পাঁচটি স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে পাহারা দিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে পুশইন ঠেকাতে রাতভর টহল ও কড়া নজরদারির কাজ করেছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনতা।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) ভোর রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারের কাছ দিয়ে এই ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক ও শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে জিরো লাইনে আটকা পড়ে

এরপর বিজিবির অনড় অবস্থান এবং দুই দেশের কমান্ডার ও সেক্টর পর্যায়ের দফায় দফায় বৈঠকের পর অবশেষে শুক্রবার বিএসএফ তাদের সীমান্ত অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *