ফ্রিল্যান্সিং আয়ে উৎসে কর প্রত্যাহার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশ থেকে আসা আয়ের ওপর এত দিন সাড়ে ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সরকারের এই ইতিবাচক খবরের পর বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক ইতোমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

একইসঙ্গে ব্যাংকটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে কর বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ জানান, আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সাড়ে ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো। তবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং তরুণদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে এ আয় থেকে আর কর কাটা হবে না।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে ইতোমধ্যে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ কীভাবে দ্রুত ফেরত দেওয়া যায় সে বিষয়েও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী নির্দেশনা এবং ব্যাংকের দ্রুত উদ্যোগের ফলে দেশের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি নজরে আসলে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত ৭.৫ শতাংশ কর আরোপ না করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১ জুন সচিবালয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে জুয়েল রানা জানান, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ৭.৫ শতাংশ কর আরোপের গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন এবং এমন কর আরোপ না করার পক্ষে মত দেন।

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে— এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সার্জিস আলমসহ অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ফ্রিল্যান্সার বা প্রবাসী আয়ের ওপর এ ধরনের কর কর্তনের কোনো বিধান নেই।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে সার্জিস আলম লিখেছেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ফ্রিল্যান্সার কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত সাড়ে ৭ শতাংশ কর আরোপ করা হবে না। কিন্তু এর পরও অনেকের ব্যাংক হিসাব থেকে ওই হারে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা হচ্ছে না? নাকি এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি? নাকি কার্যকর হবে না?” এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে সার্জিস আলম একটি ব্যাংক লেনদেনের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, একজন গ্রাহকের হিসাবে ‘এনওয়ার্ড কমার্শিয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে ২৩ হাজার ১৫০ টাকা ৭৯ পয়সা জমা হওয়ার পর ‘ডেবিট ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স’ শিরোনামে ১ হাজার ৭৩৬ টাকা ৩১ পয়সা কেটে নেওয়া হয়েছে, যা মোট অর্থের প্রায় ৭.৫ শতাংশ।

পোস্টে সার্জিস আলম আরও বলেন, যারা ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের ওপর এ ধরনের কর আরোপ সমর্থনযোগ্য নয়। তবে উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, “ফ্রিল্যান্সার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর থেকে কর কর্তনের কোনও বিধান নেই। এ তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “কর-সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ বিষয়ে এনবিআরই ভালো বলতে পারবে। ফ্রিল্যান্সার বা রেমিট্যান্স আয়ের ওপর এ ধরনের কর কর্তনের কোনো নির্দেশনার কথা আমি কখনও শুনিনি।”

এর আগে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত ৭.৫ শতাংশ কর আরোপ না করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১ জুন সচিবালয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে জুয়েল রানা জানান, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ৭.৫ শতাংশ কর আরোপের গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন এবং এমন কর আরোপ না করার পক্ষে মত দেন।

জুয়েল রানার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই তরুণরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যাক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক। তারা বিদেশ থেকে অর্থ দেশে নিয়ে আসছে, সেটাই যথেষ্ট। ফ্রিল্যান্সাররা দেশের জন্য বড় ভূমিকা রাখে। যারা কনটেন্ট ক্রিয়েশন করে তারা তাদের পরিবার চালায়। তাদের ওপর এমন বোঝা চাপানো উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “তারা দেশের টাকা পাচার করে না, বরং দেশে নিয়ে আসে।”

তবে জুয়েল রানার বক্তব্যের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা জারি করা হয়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও কর কর্তনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *