ঢাকায় এসেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ও তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, দিনেশ ত্রিবেদী ও মৃণাল ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বঢ়ে।

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে এপ্রিলের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরবর্তীতে দুই দেশ সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিবিদ দিনেশ ত্রিবেদীকে পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিল ভারত।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন ‘পলিটিক্যাল এনভয়’ প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বাংলা ভাষার দক্ষতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, দু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত করতে চায় ভারত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটির মূল ভিত্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগকারী। তার মাধ্যমে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরের আলোচনা সহজ হবে। দীনেশ ত্রিবেদী যদি এই মানুষে মানুষে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে পারেন, তাহলে তার মিশন সফল বলে বিবেচিত হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স ৭৬ বছর।

তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যসভায় দুবার (১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮) এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬-১৭ সালে তিনি ‘অসামান্য সংসদ সদস্য’ পুরস্কার লাভ করেন।

দিনেশ ত্রিবেদী লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই বিজেপিতে যোগ দেন। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *