২৫০০ কোটি তারল্য সহায়তা পেল ইসলামী ব্যাংক

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎  

নগদ টাকার সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে আবেদন করে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সহায়তা দেওয়া হয়।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে ঈদের পর থেকে আন্দোলন চলছে। ফলে গত সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে ব্যাংকটি। প্রথম ধাপে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হলো।

শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই। ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না। 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে জরুরি বৈঠক

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আস্থাহীনতা, গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকটের মধ্যেই ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। এতে উপস্থিত আছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধি দল ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি, তারল্য চাপ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গভর্নরকে অবহিত করবে। 

এদিকে, চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ ও আস্থাহীনতার কারণে গ্রাহকদের ব্যাপক টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সহায়তার এ অর্থের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া আন্তঃব্যাংক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সেবা সচল রাখতে আরও ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়। এর জেরে মাত্র সাত কার্যদিবসে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নেন আমানতকারীরা। ফলে ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনায় তীব্র চাপ তৈরি হয়।

খুরশীদ আলমের নিয়োগের আগে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির সিআরআর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও, টানা আমানত উত্তোলনের ফলে তা কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ব্যালেন্সও ঘাটতির মুখে পড়েছে।

দৈনন্দিন লেনদেন ও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পরিশোধে চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *