✍︎ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ✍︎
পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখাজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিজিবি ও সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের শক্ত প্রতিরোধে শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে পুশইনের চেষ্টা করা নারী-শিশুসহ ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্ত ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে ওই ১২ জন কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছিল।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
জবাবে বিএসএফ জানায়, ওই ১২ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে। এরপর একটি দিন পার হয়ে যায়। আজ সকালে বিএসএফ ভারতীয় সীমান্তবাসীদের সঙ্গে নিয়ে শূন্যরেখা এলাকায় এসে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ ওই ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটে এবং সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে নিয়ে যায়।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘সকালে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে অবস্থান করছে।’
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, বিজিবি ও সীমান্তবাসীর শক্ত প্রতিরোধে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করা ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটে। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
