✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি রোববার ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি ফেরত আসেন।
ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা পদে থাকা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ যথাযথ না হওয়ায়, উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ভারত থেকে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
উপদেষ্টা জাহেদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য। তিনি রোববার বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে সাধারণ পাসপোর্টে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যাত্রা করেছিলেন। দিল্লির বিমানবন্দরে নামার পর তাকে ভারতের নজরদারি তালিকা অনুযায়ী আটকে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করেন। এরপর যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আটক করা হয়।
সূত্রটি নিউজ১৮-কে জানায়, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ছাড়পত্র দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচ লিস্ট) থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাময়িকভাবে আটকে রাখেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি মূলত একটি ‘প্রশাসনিক ত্রুটি’ ছিল। পরবর্তীতে অসঙ্গতিটি চিহ্নিত হওয়ার পর দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হয় এবং উপদেষ্টাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কিছু ইনফ্লুয়েন্সার ও অ্যাক্টিভিস্টদের ইউটিউব চ্যানেল ভারতবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে ভারতে ব্লক করা হয়েছিল। ভারতের নিরাপত্তা নজরদারি তালিকায় থাকা সেই তালিকায় ডা. জাহেদ উর রহমানের নামও যুক্ত ছিল।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হলেও, এই সফরে তিনি তাঁর সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কূটনৈতিক পত্রের কারণে তাঁর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পাওয়ার আইনি ভিত্তি ছিল।
