✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ২৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালও সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছিল সম্প্রতি তারল্য সংকটে পড়া ব্যাংকটি।
সোমবার নতুন করে ব্যাংকটিকে এ অর্থ দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পেয়েছি। গতকাল পাওয়া অর্থ এখনো আমাদের ব্যবহার করতে হয়নি।”
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, যেসব গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা ব্যাংকের প্রতি আবারও আস্থা ফিরে পাবেন এবং ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ফেরার লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “ব্যাংকের একটি বড় শাখা থেকে আমরা মাত্রই তথ্য পেয়েছি, আগের তুলনায় সেখানে হিসাব বন্ধের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমেছে।”
এর আগে গতকাল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমসহ পর্ষদের সদস্যরা বাদ পড়েন। আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও গ্রাহকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটিতে প্রশাসক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যা বললেন নতুন প্রশাসক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ-ভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জহির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
এ সময় তিনি গ্রাহকদের কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন যে, সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন স্বাভাবিকভাবে চলবে।
তিনি আরও বলেন, পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এর আগে ১৪ জুন ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ এর বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারী ও সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ঘোষণা করে যে, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ডের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ অনুমোদন করে। এই পদক্ষেপ ব্যাংকটির চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করবে।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম-এর ব্যানারে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানোর ফলে ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা দাবি আদায় না হলে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
