✍︎ ক্রীড়া প্রতিবেদক ✍︎
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আলজেরিয়ার জালে বল পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ফুটবলের রেকর্ডের এভারেস্টে পা রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মেসির ১৬তম গোল। আর এই জাদুকরী গোলের মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা জার্মানির সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। বিশ্বকাপ আসরে এখন যৌথভাবে সর্বাধিক গোলদাতা মেসি। এতদিন পর্যন্ত এককভাবে এই অর্জনের মালিক ছিলেন ক্লোসা।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচের ১৭ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন তিনি। আলজেরিয়ার গোলকিপার দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান সেটি ঠেকিয়ে দিলেও নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল থেকে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ১৫তম গোল।
দ্বিতীয় গোল করার পর থেকেই হ্যাটট্রিকের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন মেসি। ৬৬ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে শট নিলেও আলজেরিয়ান গোলরক্ষক সে যাত্রায় তা প্রতিহত করেন। তবে ৭৬ মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি মেসি। বক্সের বাইরে থেকে মেসি নিজেই এই আক্রমণের বিল্ডআপ শুরু করেন। বাঁ প্রান্তে থাকা নিকো গঞ্জালেসকে পাস বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত গতিতে বক্সের মাথায় পজিশন নেন তিনি। গঞ্জালেসও কালক্ষেপণ না করে রিটার্ন পাস দেন অধিনায়ককে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রথম স্পর্শেই আলজেরিয়ান ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল পাঠিয়ে দেন মেসি। কানসাসের পুরো স্টেডিয়াম তখন করতালিতে মুখরিত।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার ঠিক তিন মিনিট পর লিওনেল মেসিকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ তুর্কি নিকো পাজকে। মেসি যখন মাঠ ছেড়ে সাইডলাইনের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থক দাঁড়িয়ে এই ফুটবল ঈশ্বরকে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানান।
কানসাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার ভোর সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে পুরোটা সময় লাইমলাইটে ছিলেন মেসি। তার মায়াবী ফুটবলে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে চূর্ণ করে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মেসিকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘লিওকে নিয়ে বলার মতো কোনো শব্দ আর অবশিষ্ট নেই। আমি নতুন করে আর কী বলব? সে স্রেফ অবিশ্বাস্য! গত ২০ বছর ধরে সে প্রতিনিয়ত এই একই কাজ করে যাচ্ছে। ফুটবল দুনিয়ার প্রতিটি মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চায় এবং তাঁর খেলা উপভোগ করে।’
মেসির লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘মাঠে সে একটা বলের আশাও ছেড়ে দেয় না।
ম্যাচে দাপুটে জয় আসলেও মাঠের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন কোচ। আলজেরিয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম আমাদের ভুগতে হবে। আলজেরিয়া যথেষ্ট ভালো একটি দল এবং তারা দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। আমরা মাঠে আমাদের সেরাটা দিয়েছি, তবে ম্যাচটি সত্যিই খুব কঠিন ছিল।’
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে সেই ২-১ গোলের হারের ধাক্কা এখনো ভোলেননি স্কালোনি। সেই তেতো স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের হয়। গত বিশ্বকাপে আমরা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিলাম। তাই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আজ আমাদের একটি দারুণ শুরু খুব দরকার ছিল। ছেলেরা সেটি করে দেখিয়েছে।’
