✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৪ দফার এই নথি পড়ে শোনান।
মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং নামে পরিচিত ১৪ দফার এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না। একইসঙ্গে দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে সমঝোতা স্মারকে সই করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি সই হয়েছে। আমি ভার্সাইতে মাত্রই এতে সই করেছি।’
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হওয়া চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন।
ইরানের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং তা যাচাইয়ের পর্যায় শুরু হবে।
তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ অবস্থান থেকে দূরবর্তীভাবে এতে সই করেছেন। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আলাদা আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমঝোতা বা প্রাথমিক চুক্তির ১৪টি দফা, সেগুলোর অর্থ এবং একটির সঙ্গে অন্যটির যুক্ততার বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ
ফ্রান্সের ভার্সাই শহরের ঐতিহাসিক প্রাসাদে (প্যালেস অব ভার্সাই) স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেবে। এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।
তবে এই বিষয়টিতে ইসরায়েল কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের উদ্বেগ, হিজবুল্লার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে। অন্যদিকে বুধবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকলে তা সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পক্ষই সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা একে অপরকে হুমকি দেবে না। একইসঙ্গে তারা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটবে।
২. ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ সম্মান প্রদর্শন
মার্কিন কর্মকর্তাদের পড়ে শোনানো নথির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাবে। একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
এই অংশটি ইরানের সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সহায়তা যাচ্ছে।’ এর কিছুদিন পর যুদ্ধ শুরু হয়।
৩. দুই মাসের সময়সীমা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
দুই দেশের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকেই ৬০ দিনের এই গণনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাতে ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নথিতে স্বাক্ষর করেন।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও নিজ দেশে অবস্থান করে এতে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। তবে এখন সেটি আদৌ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
৪. যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ অবরোধ এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা যেকোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
চুক্তি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর দিয়ে কত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, সেটি নির্ভর করবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কয়টি জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে তার ওপর।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাস্তবে এর অর্থ হলো, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা সামরিক বহর যেখানে ছিল সেখানে ফিরে যাবে।
৫. হরমুজ প্রণালি
ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেবে। এর জন্য কোনো টোল নেওয়া হবে না। নথিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ও সামরিক বাধা দূর করা এবং মাইন অপসারণ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে।
চুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে কোনো টোল দিতে হবে না। নথিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালনা করা হবে সে বিষয়ে একটি বৃহত্তর চুক্তি তৈরির জন্য ওমান এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরান কাজ করবে।
৬. ইরান পুনর্গঠনে অর্থায়ন
যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে এই অর্থায়ন ব্যবস্থার বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের নিবন্ধন, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র আর্থিকভাবে এতে যুক্ত থাকবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানকে ‘এক পয়সা অর্থ দিতে’ বা এই তহবিলে অবদান রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান যদি ভালো আচরণ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ইরানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে।
৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।
তবে এটি কখন থেকে কার্যকর হবে সেই সময়সীমা স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে উভয়পক্ষই স্বীকার করেছে যে, পরবর্তী আলোচনায় তারা এই বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামের অভিযানের লক্ষ্য ছিল তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
৮. কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা কেনার পথ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে তেহরানের কাছে বর্তমানে যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আছে, সেটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করতে রাজি।
এই উপাদান কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় এ বিষয়ে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে। তবে ন্যূনতমভাবে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ওই ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে আনা হবে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শুরুতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার ৯৯.৯ শতাংশ লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা ঠেকানো।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এই প্রাথমিক চুক্তিটি শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কার্যকর হবে। তাই সপ্তম দফায় উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অষ্টম দফার শর্ত মানার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করলেই কেবল আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে।
৯. স্থিতাবস্থা বজায় রাখা
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান স্তরেই স্থির রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে নতুন করে সেনা বাড়াবে না।
১০. তেল রপ্তানিতে ছাড়
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার দিন পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এর উপজাত সামগ্রী রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড় দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন সেবার মতো খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. ফ্রিজ হওয়া অর্থ মুক্তি
চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইরানের আটকে থাকা বা ফ্রিজ হওয়া সমস্ত তহবিল ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা হবে। এই অর্থ সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান (ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) তাদের নির্ধারিত যেকোনো সুবিধাভোগীর পেমেন্টের জন্য সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স দেবে।
১২. তদারকি কমিটি
চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে একটি যৌথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা বা মেকানিজম গঠন করা হবে।
১৩. পরবর্তী আলোচনা
এই সমঝোতা স্মারকের ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর, উভয় দেশ বাকি ধারাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে।
১৪. জাতিসংঘের অনুমোদন
চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বা রেজোলিউশনের মাধ্যমে অনুমোদিত ও বৈধ হতে হবে।
পর্দার আড়ালের রাজনীতি যদিও এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা একে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তাৎপর্য কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
তাদের মতে, এই খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনা এবং খসড়ার কিছু অংশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও নির্ভুল নয়’ বলে দাবি করেছে।
