লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির তিন দিন পর লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) থেকে কার্যকর হয়েছে এ যুদ্ধবিরতি।  

ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর দু’টি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও প্রায় এক ঘণ্টা দক্ষিণ লেবাননে এক ডজন বিমান অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী, তবে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর তরফ থেকে কোনো ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা বিমান হামলা হয়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের একটি মহাসড়কে ড্রোনের আঘাতে ২ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য জানতে আইডিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে লেবাননে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল আইডিএফ। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৭ জন। সেই অভিযানের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লার যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়া গেলো।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন—মার্কিন, কাতারি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের তৎপরতার ফলাফল এই যুদ্ধবিরতি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, “হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যদিও আজও লেবাননে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে, তবে আমরা বুঝতে পারছি এবং আশা করছি যে এখন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।”

২০২৪ সালে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে প্রথমবারের মতো লেবাননে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। ইসরায়েলি বাহিনীর সেবারের অভিযানে নিহত হন হিজবুল্লার শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ গোষ্ঠীটির প্রথমসারির অধিকাংশ নেতা এবং কমান্ডার। ফলে তছনছ হয়ে যায় গোষ্ঠীটির সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড। এছাড়া হিজবুল্লার সামরিক স্থাপনাগুলো ও অস্ত্রাগারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেবার।

টানা ৯ মাস অভিযান চালানোর পর ২০২৫ সালের জুনের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতিতে যায় লেবানন-ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর। কারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও মাঝেমাঝেই দক্ষিন লেবাননে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতো আইডিএফ, পাল্টা জবাব দিতো হিজবুল্লাও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি বাহিনীর সাড়ে ৩ মাসের অভিযানে এ পর্যন্ত লেবাননে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১২ জন মানুষ, এদের মধ্যে ৭৪৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, নারী ও শিশু আছে।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাড়ে তিন মাসের সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আইডিএফের ৩২ জন সেনা এবং ৪ জন সাধারণ বেসামরিক ইসরায়েলি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *