ডিবির হাতে আটকের পর ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৭)-কে আটক করে ডিবি। এ সময় তাঁকে তাঁর মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে মাদকসহ আটক হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় তার মৃত্যু হয়।

তবে ডিবি পুলিশের দাবি, ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আজ ভোরে তাঁকে নাশতা করানো হয়েছে।

মারা যাওয়া মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মরহুম এসকেন হায়দারের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইশতিয়াক বড় ছিলেন। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ইশতিয়াক ছাত্রলীগের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখা।

মির্জা ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের ভাষ্য, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর ভাগনে ইশতিয়াক বাড়ির সামনে ছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে করে ডিবি পুলিশের ১২-১৩ জন সদস্য এসে ইশতিয়াককে আটক করে মারধর করেন। ইশতিয়াকের মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাড়ির মধ্যে ঢুকে প্রতিটি কক্ষের যাবতীয় জিনিসপত্র তছনছ করেন। এরপর তাঁর ভাগনেকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যান।

ইশতিয়াকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকাল সারা রাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোনো হদিস পাননি। পরে আজ সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন।

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তারের ভাষ্য, ‘ইশতিয়াককে আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মাদকজাতীয় কোনো দ্রব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে বিন্দুমাত্র মাদকসামগ্রী উদ্ধার করতে পারেনি। তবে শুনেছি, পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে।’

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে খাদিজা বেগম বলেন, ‘কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইল, আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

পরিবারের দাবি, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুজ্জামান ও এসআই মো. মোতাহার আলীর নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টবেল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান, রকিবুল ইসলাম ও চম্পা হালদার। গাড়িচালক ছিলেন মো. সবুজ মোল্লা।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রান্তকে বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাঁকে আমাদের কাস্টডিতে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে আমাদের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থতাবোধ করলে তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা গেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে এটা এনসিওর (নিশ্চিত) করেছি যে তাঁর শরীরে কোনো ধরনের জখম ছিল না। আমাদের পুলিশের হেফাজতে কোনো ধরনের আঘাত করা বা এ রকম কিছু ঘটনা করা হয়নি।’ এ ঘটনায় পুলিশ অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *