চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

বাংলাদেশের সঙ্গে এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বিভিন্ন দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭৮৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য আর আমদানি করেছে ৯৬২ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি ৩৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২৮০ কোটি ২৫ লাখ ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে ২৪৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, কাতারের সঙ্গে ২১০ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো, জাপানসহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক ডাইরেক্টর জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সরকার আশা করছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল-এর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যঘাটতির পরিমাণ ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই ঘাটতি কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও আটটি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য; পাট ও পাটজাত পণ্য; কৃষিপণ্য; ওষুধশিল্প; আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা; লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য; হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *