✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন জায়গায় শতশত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছিল, এই ভূমিকম্পে এক লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ আপডেটে ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ ভবনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।
আতঙ্কিত এসব মানুষ আফটারশকের ভয়ে সারারাত বাইরে কাটিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সেখানকার কাতিয়া লা মার শহর বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার বহু ঘরবাড়ি ও উঁচু ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শহরটি।
এরমধ্যে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তাদের সারারাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন আত্মীয়-স্বজনরা। আটকে পড়াদের অনেকে জীবিত থাকলেও তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।
ল্যারি রোজাস নামে ৪৯ বছর বয়সী এক নারী বলেছেন, “আমাদের আর কিছুই নেই। একটু শক্তিও নেই ধসে পড়া ভবনের কাছে যাওয়ার।” তিনি তার ধসে পড়া বাড়ির সামনে বসে আছেন। এর ভেতর তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন আটকা পড়ে আছেন।
আরেক নারীর এক মেয়ে ১২ তলা উঁচু একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছে। কিন্তু ভূমিকম্পের পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মেয়েকে কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। তিনি বলেছেন, “ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছেন না।”
ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ সংকটে জরুরি মানবিক ও উদ্ধার সহায়তার হাত বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন অবিলম্বে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে।
ফ্রান্স ৮৫ জন এবং স্পেন তাদের সামরিক বাহিনীর ৫৪ জন অভিজ্ঞ অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া চীন, ভারত ও ব্রাজিলও ভেনেজুয়েলাকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলায় এর আগে ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক প্রলয়ংকরী ভূকম্পনে ২৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এবারের জোড়া আঘাত অবকাঠামোগত দিক থেকে দেশটির জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
