✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর বিষয়ে বাংলাদেশ এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরের বিষয়টি সম্ভাবনার দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে ব্রিকসে যোগ দেয়া, তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহায়তার অংশ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ব্রিকস-এ যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।
মালয়েশিয়া সফরেও অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত ভিডিও প্রমাণ করে তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কত গভীর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগের দুটি নোট অব ভার্বাল স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে দুই দেশ কাজ করবে বলে একমত হয়েছে।
মালয়েশিয়াতে দুই লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নীতিগত বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সেখানে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করার উদ্যোগ এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে, আসিয়ানের সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে মালয়েশিয়া।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় বাংলাদেশের সদস্যপদের বিষয়ে চীনের সমর্থনের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে প্রথম শিল্পকারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তাঁরা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেছেন। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে।
