ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎ 

ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ৫১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দেশটিতে গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় শুক্রবার রাত থেকে এলাকাটিতে যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি উদ্ধার অভিযানে সংকটের কারণে স্থানীয়রা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টা শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে সহায়তাকারী সংস্থাগুলো।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ অনুমতি নিয়ে লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। তবে কারা এ অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে সরকার ব্যাপক তৎপরতার দাবি করেছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এখন প্রতিটি প্রাণ বাঁচানোই এক একটি অলৌকিক ঘটনা। আমরা এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতার কিছুই আড়াল করব না।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, সরকার এই ‘সংকটপূর্ণ সময়ে’ উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

শনিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এরই মধ্যে শনিবার আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ দশমিক ৬ লাখ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন, ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়বে। এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *