সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎  

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না।

হোলি আর্টিজানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদমুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকায় হলি আর্টিজান হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইতালি দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিহতদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতি স্মারকে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তারা নিহতদের স্মরণে পুস্পস্তবক ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। 

অনুষ্ঠানে নিহতদের সম্মানে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এরপর এই ঘটনাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ক্ষত বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। হলি আর্টিজান হামলা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, সেদিন সন্ত্রাসীরা আশা, মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

একজন মা হিসেবে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ওপর একটি পরিকল্পিত আঘাত। কিন্তু বাংলাদেশ ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। গত এক দশকে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারী-যুবসমাজ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এই হামলায় ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয়, এক বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ।

পরদিন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে অবসান ঘটে জিম্মিদশার। নিহত হয় ৫ জঙ্গি।

২০১৯ সালে নিম্ন আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২০২৩ সালে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। এখন ঝুলে আছে আপিল বিভাগে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলছেন, মামলাটির বিচারকাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমাদের দেশের যেকোনো মামলা শুনানি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে নানা রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচ জন বিচারপতি আছেন এবং মামলার যে চাপ এই বিচারটির সঙ্গে শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় না আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও এর একটা গুরুত্ব আছে। তো সে বিষয়টি বিবেচনা রেখে আমরা উদ্যোগী হব।

বিভিন্ন সময় তৌহিদী জনতার নামে মব তৈরি এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠীর পতাকার সঙ্গে মিল থাকা পতাকা নিয়ে মিছিল ভাবাচ্ছে বিশ্লেষকদের।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, ছোট ঘটনা বড় ঘটনার পূর্বাভাস দেয় কিনা? আমি বলব ইয়েস দেয়। সুতরাং এই ঘটনাগুলোকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। ডটগুলোকে জোড়া দিতে হবে, দিয়ে কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, কারা করছে, এটা কি দেশের ভেতরে যারা আছে তারা করছে? নাকি দেশের বাইরের যারা আছে তারা তাদের ইন্ধনে দেশে যারা আছে তাদের মাধ্যমে এই কাজটা করছে? এই লিংক পুরোটাকে বের করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে হলি আর্টিজান পরবর্তী সময়ে মাঠ পর্যায়ে উগ্রবাদীদের তৎপরতা নস্যাৎ করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মাহফুজুল আলম রাসেল বলেন, যেখানেই যেটা হোক না কেন আমরা প্রথমেই দেখি সেটা আমাদের আইনের আওতাভুক্ত কিনা এবং আমাদের মনিটরিং এর একটা ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা আমাদের কার্যক্রম যাতে সুক্ষ্মভাবে সুন্দরভাবে আমরা সম্পন্ন করতে পারি সেজন্য আমরা সর্বদা কর্মরত আছি।

বিশ্লেষকরা বলছেন জঙ্গিবাদ নির্মূলে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *