✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো দেশের হস্তক্ষেপ চীন মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনের দূতাবাসে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে চীন দূতাবাস এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীন সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে, অন্য কোনো ইস্যু আমাদের ভাবনার বিষয় নয়। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।
ইয়াও ওয়েন বলেন, আমাদের নীতি, শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, চীনের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপকে তারা সমর্থন করে না। অনেক সময় বিদেশি শক্তি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, যা তাদের অভিজ্ঞতার অংশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর অত্যন্ত সফল। এ সফরে দুদেশের কৌশলগত পর্যায়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আস্থার এক নতুন স্তর তৈরি হয়েছে।
তিস্তা ইস্যুতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
কোনও ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় চীন বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, গত ৫০ বছর ধরে এ নীতিই চীনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা চীন বুঝতে পারে। এ কারণে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় চীনের অবস্থান স্পষ্ট এবং বাংলাদেশকে এই বিষয়ে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে তিন দেশের জনগণই এর সুফল ভোগ করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, সফরটি অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে। এ সফর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
এক সাংবাদিক জানতে চান তিস্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে, আবার অনেকে বলছেন উজান থেকে ভারত পানি না ছাড়লে এটি ফলপ্রসূ হবে কি না, এ নিয়েও উদ্বেগ আছে। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা নিয়ে অন্য উপাদানের কথা বলছেন। এটা আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীন এগিয়ে এসেছে।’
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এটি নতুন উদ্যোগ নয়। আমরা ১৫ বছর আগে বিসিআইএমের প্রস্তাব করেছিলাম। কিছু অগ্রগতি হলেও চীন যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে তা এগোয়নি। যেহেতু বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযুক্তি চাইছে চীনও আরও বেশি আঞ্চলিক সংযুক্তি চায়। আমি বিশ্বাস করি, মিয়ানমারও এ ধরনের (সংযুক্তি) সহযোগিতা চায়।’
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘অন্য দেশের ব্যাপারে আমরা খোলামন নিয়ে আছি। তারা যদি তৈরি থাকে, তবে আমরা তাদের যুক্ত করতে তৈরি আছি। এটা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু চীন এখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতার কারণে স্থলপথে করিডর প্রতিষ্ঠার সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা বন্দর ও সমুদ্রপথে যুক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারি।’
