দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সৈয়দপুরে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শনিবার বেলা ৪টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজকের দিনে দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তীব্র গরমে এ অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচণ্ড রোদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেকেই কাজ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তীব্র রোদ ও গরমে অনেককে কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।

কলিম মজুমদার নামে এক রিকশাচালক জানান, `গরমে, ঘামে শরীর কাহিল হয়ে পড়ে। বেশিক্ষণ রিকশা টানা যায় না। তাই গত কয়েক দিন ধরে উপার্জনও কম।’

এদিকে গরমের কারণে স্থানীয় বাজার ও ফুটপাতে আখের রস, লেবুর শরবতসহ ঠান্ডা পানীয়ের বিক্রি বেড়েছে। একটু প্রশান্তি আর তৃষ্ণা নিবারণে সাধারণ মানুষ এসবের ওপর নির্ভর করছেন।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, আগামী কয়েকদিন এই সময়ে তাপমাত্রার ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।

সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলে সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্য ঝোড়ো হাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত বিশেষ বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং এর আশপাশের উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপের রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটির গতিপথ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূলের দিকে হওয়ায় বাংলাদেশে বড় ধরনের ঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। তিনি বলেন, লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বাংলাদেশের ওপর এর প্রধান প্রভাব হবে বৃষ্টিপাত, তীব্র ঝড় নয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগের বিচ্ছিন্ন এলাকায়ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টির প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *