যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

শনিবার (৪ জুলাই) আমেরিকান দূতাবাস কর্তৃক জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ।

বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্যে অসামান্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান। এসব অবদান দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ ভবনের আইকনিক প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই স্বাধীনতার ঘোষণায় উচ্চারিত ‘সব মানুষ সমান’—এই আদর্শকে ধারণ করেই যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদারে কাজ করছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। 

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. মো: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বাংলাদেশ আমাদের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা ও পাশে থাকা আমাদের এই গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রমাণ। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে, যেখানে দুই দেশের টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন অবদান ও যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সকল মানুষ সমান’। আর আজ আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আমরা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৪ জুলাই) পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার, এদেশের জনগণ এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আপনাকে ও আপনার দেশের জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি যে, আপনার বাস্তবমুখী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে আগামী দশকগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও শ্রেষ্ঠত্বের পথে এগিয়ে যাবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গৌরবময় উপলক্ষটি উদযাপন করছে, তখন ‘আমেরিকা ২৫০’ সারা বিশ্বের মানুষকে মার্কিন স্বপ্ন, ত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুমুখী সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন যাত্রায় এক মূল্যবান বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ও মহানুভবতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি এবং আমার সরকার অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও গভীর করতে আপনার এবং আপনার প্রশাসনের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন এবং বন্ধুপ্রতিম মার্কিন জনগণের জন্য টেকসই শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *