তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এ জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। এতে ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি ইমামতি করেছেন। 

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, জানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। জানাজার পর সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর খামেনির মরদেহ আরও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় সপরিবারে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেছেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।

আলী খামেনির সঙ্গে তার জামাতা মেসবাহ-ওল-হোদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সাইয়েদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানির মরদেহ রাখা হয়েছিল।

জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও কর্মকর্তা। এ ছাড়া অন্তত ৭০টি দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং লাখ লাখ ইরানি সাধারণ জনগণ।

জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও কর্মকর্তা। অন্তত ৭০টি দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং লাখ লাখ ইরানি সাধারণ জনগণ। এ ছাড়াও আফগানিস্তান ও ইরাক সীমান্ত দিয়ে অগণিত আগত মানুষ এই জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

আরও আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এবং সবশেষ মাশহাদে প্রয়াত এই ইরানি নেতাকে কবরস্থ করা হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনির জানাজা। যা জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। তেহরানে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল ১ কোটির বেশি মানুষ। তবে এবার আলী খামেনির জানাজায় ২ কোটি মানুষের সমাগমের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইরান।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *