✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অনেক বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে লিখিত-অলিখিত আলোচনা ছাড়া এখন স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য যৌক্তিক হবে না। তবে আমরা অক্টোবরকে সামনে রেখে সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। অক্টোবরে নির্বাচন হলে তার ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে আবদুর রহমানেল মাছউদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার সবধরনের প্রস্তুতি ইসি শুরু করেছে। স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্ধারণ ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তালিকা ইসিকে দিতে সরকারকে অনুরোধও জানানো হবে।
মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠান শূন্য আছে। তবে একটা নির্বাচন আরেকটা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য। পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন না হলে উপজেলা পরিষদ গঠন করা যায় না। তাই এটা পরে করতে হবে। তবে সিটি করপোরেশন আলাদা।
তিনি বলেন, নির্বাচন হয়ে যাবে, আইনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এখন সব নির্বাচন যাতে একত্রে আসছে, তাই আইনের বাধ্যবাধকতা পালন সেভাবে সম্ভব হবে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারি। মানুষের উপকারে কোন নির্বাচনটা বেশি প্রয়োজন এবং কোথায় মানুষ অসুবিধা বোধ করছে— এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করব।
তিনি আরও বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যখন সঠিক হয়, তখন নির্বাচনও সঠিক হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যাতে ওই মাপের করতে পারি সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি ইসি শুরু করেছে উল্লেখ করে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। পেছানো যায়, কিন্তু আগানো অসম্ভব; যেহেতু বহু লোকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অক্টোবরে নির্বাচন হবে, এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে অন্য সব প্রস্তুতি ইসি গ্রহণ করছে।’
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রাক্-প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করছি। ইতিমধ্যে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ সংসদে এ নিয়ে কথা বলেছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া শুরু করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের সিনিয়র সচিব মহোদয় ধারাবাহিকভাবে এ ব্যাপারে আপডেট করতে পারবেন।’
ইসি মো. সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আচরণবিধি নিয়ে কাজ করেছি, আচরণবিধি আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দিয়েছি। আচরণবিধির ওপরে কিছু অবজারভেশন যাদের যা দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো পেয়েছি। আমরা আইনগুলো ঘেঁটে দেখেছি, তার মধ্যে যদি কোনো সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়, সে নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
সীমানার প্রসঙ্গ তুলে ইসি মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণ স্থানীয় সরকার বিভাগ করে থাকে। আমরা সেটার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে দ্রুততম সময়ে সেগুলো শেষ হয়ে যায়। জাতীয় নির্বাচনের মতো করেই সুন্দরভাবে একটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের করতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আচরণবিধি ওয়েবসাইটে দিয়েছি। এর ওপর কিছু অবজারভেশনও পেয়েছি। আমরা আইনগুলো ঘেঁটে দেখেছি। তার মধ্যে কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন নিয়েও কাজ করছি। জাতীয় নির্বাচনের মতই খুব সুন্দরভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আমাদের করতে হবে।
আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ-দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল।
