✍︎ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ✍︎
টানা চার দিনের থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের অন্তত ১৫টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় যানজটের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিম্নচাপটি এখনো বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় এই বৃষ্টিপাতের ধারা আরও দু-এক দিন অব্যাহত থাকবে। এ সময় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার থেকে বেড়ে যায়। আজ ভোর থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
বৃষ্টির পানি নালা দিয়ে নামতে না পারায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, হালিশহরের কে ও এল ব্লকের সোনালি আবাসিক, বসুন্ধরা আবাসিক, রামপুর, ছোটপুল, আনন্দপুর ও এক্সেস রোড এলাকায় বাসাবাড়ি ও সড়ক হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
উত্তর ও দক্ষিণাংশের চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চান্দগাঁও ফরিদার পাড়া ও মোহরা এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পানির ওপর দিয়ে রিকশায় যাত্রী পারাপার করতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং নগরের হালিশহরের বাসিন্দা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, `হালিশহর ছোটপুল পুলিশ লাইনের সামনে যে বড় নালা আছে সেই নালা দিয়ে পানি নামতে পারছিল না।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, `নগরের ভেতরে শুধু কাতালগঞ্জ ও আশপাশে কিছু পানি উঠেছিল। তবে বহদ্দারহাট, প্রবর্তক, মুরাদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় যেখানে নিয়মিত জলাবদ্ধতা হতো সেখানে এবার কোনো পানি ওঠেনি।’
প্রণব কুমার শর্মা আরও বলেন, `চান্দগাঁও মোহরা, সিটি করপোরেশনের ২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড ও ৪১ নম্বর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় পানি উঠেছে। এত পরিমাণের বৃষ্টিপাত হয়েছে যে, সেসব এলাকায় বড় বড় নালাগুলো পানি উপচে পড়েছে।’ তিনি বলেন, `কদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে সকালে জোয়ারও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় পানি জমেছে। তবে নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সকাল থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
আগ্রাবাদে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আবুল হোসেন বলেন, `সকাল থেকে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। পানির কারণে অফিসে যেতে বেগ পেতে হয়েছে।’
এদিকে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর রেলস্টেশন ও জানালীহাটের মাঝখানে রেললাইনের ওপর পানি জমায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে যেতে পারেনি। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ছাড়ার পর ১২টা ৪০ মিনিটে হাজারখানের যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি ষোলোশহর রেলস্টেশনে আটকা পড়ে।
কক্সবাজারের ১০ উপজেলা প্লাবিত
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়কে পানি ওঠায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগের মধ্যে মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা পাঁচ দিন ধরে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দ্বীপে যেতে না পেরে টেকনাফে আটকা পড়েছেন শতাধিক যাত্রী।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, টেকনাফ পৌরসভা এবং সদর, সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তত ৮০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। একই সঙ্গে লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘরও প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলায় নতুন করে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমিন হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে পানি ঢুকে সবকিছু তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে শুধু মুড়ি-চানাচুর খেয়ে আছি। আশপাশের অনেক পরিবারের একই অবস্থা। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামছে না।’
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ইউনিয়নের অন্তত ৪০০টি ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক। শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, কয়েকদিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় টেকনাফ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে এবং সংকটও দেখা দিয়েছে।
দ্বীপের আরেক বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরে টেকনাফে আটকা আছেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ নেই। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্বীপের পরিস্থিতিও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের হাজীবাজার মসজিদসংলগ্ন এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে জনজীবন ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
পাহাড়ধসে আরও এক প্রাণহানি
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। এসময় তার স্বামী জসিম উদ্দিন ও পরিবারের এক শিশু সদস্য আহত হয়।
নিহতের ভাই মনির হোসেন বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে তাদের বসতঘর ছিল। টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে ঘরের ওপর পড়ে। আহত তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাছিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার ও সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। এতে ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ও ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬২৪টি আশ্রয়। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে সংস্থাটি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী তিন দিনও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ করছে। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়িতে যান চলাচল বিঘ্নিত
খাগড়াছড়িতে তিনদিন ধরে টানা বর্ষণে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও বাসা-বাড়িতে ঢুকছে পানি। কিছু কিছু সড়কে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষরা। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা।
ভারী বৃষ্টিতে মঙ্গলবার মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারেনি। ফলে খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানিতে সড়ক ডুবে গেছে।
মঙ্গলবার টানা বৃষ্টিতে জেলা সদরের মুসলিম পাড়ার নিচু এলাকা, উত্তর গঞ্জপাড়া, মেহেদী বাগের একাংশ, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজার, দীঘিনালা ও লংগদু সড়ক তলিয়ে গেছে ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।
জেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে থাকা শতাধিক পরিবারদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া পানিবন্দি থাকা পরিবারদের জন্যে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার কথা জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, বর্তমানে সকল রকমের সচেতনতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আজকের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ষোলশহর সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় ৮১৬ নম্বর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে প্রবল বৃষ্টির পর রেললাইনের ওপর পানি উঠে গেলে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৌশল বিভাগ রেললাইন পরিদর্শন করবে। ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা ও কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিকে ট্রেনটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই ট্রেনের ভেতরে অপেক্ষা করছেন বলে জানান যাত্রীরা।
পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।
