✍︎ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ✍︎
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে দুই শিশু এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন মারা গেছেন।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকার ডেবলতুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩) এবং মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৪)।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারটি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছিল।’
এদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের পর ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে দুটি বসতঘরের ওপর মাটি পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।
আজিজনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, মিশনপাড়ার মো. ইউনুচের পরিবারের স্বামী-স্ত্রী এবং মো. জুয়েলের পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের এক শিশুসন্তান পাহাড়ধসে মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, টানা বর্ষণের কারণে এলাকার আরও কয়েকটি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
ঘটনার পর লামা উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাহাড়ধসের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের পানিতে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম ছিল দুর্ভোগের নগরী। বেশির ভাগ নিচু এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও। সেখানে নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। লোকজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সাজেকে আটকা পড়েছেন ছয় শতাধিক পর্যটক।
পানি ঢুকে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়। বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা করলেও বহির্নোঙরে গতকালও ব্যাহত হয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।
পণ্য খালাস ব্যাহত
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম গতকালও ব্যাহত হয়েছে। দুদিন ধরে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বহির্নোঙরে আসা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে। এসব ছোট জাহাজ নৌপথে পণ্য নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামা করার কাজ টানা দুই দিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বন্দরের মূল জেটিতে কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আগের দিন একই সময়ে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা তিন দিন ধরে এমন বৃষ্টির কারণে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, বেপারীপাড়া, মুহুরীপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দেওয়ান বাজার, কাপাসগোলা, প্রবর্তক, শান্তিবাগ, পাঠানটুলি, পুলিশ লাইন্স, এয়ারপোর্ট, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরপানি জমে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলা পানিতে তলিয়ে চলে যায়। এসব এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দুদিন ধরে বন্ধ
চট্টগ্রামে পানিতে তলিয়ে আছে রেললাইনও। বিশেষ করে, নগরীর মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় গতকালও প্রায় দেড় ফুট থেকে দুই ফুট পানির নিচে ছিল রেললাইন। এ কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করেনি। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নগরীর ষোলশহর এলাকায় পানিতে আটকা পড়ে এবং রাত ১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় রেলওয়ে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন পর্যটক এক্সপ্রেসের হাজারখানেক যাত্রীর।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
এদিকে জলাবদ্ধতা এড়িয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নগরীর ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনের বিদ্যমান রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। গতকাল সকাল ১০টায় রেলের গ্যাংকারে করে নগরীর জলাবদ্ধ রেললাইন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সৈকত এক্সপ্রেসের। কিন্তু ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সেই ট্রেনটি বিকেলে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামে আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রেললাইনটি দিয়ে ঢাকা থেকে পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন দুটি চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এরপর কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু ট্রেন দুটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি কক্সবাজার যেতে না পারায় বিকেলে আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
রাঙামাটিতে আটকা পড়েছেন ৬০০ পর্যটক
ঢাকায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্মে কাজ করেন মাহফুজুর রহমান। নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি নিয়ে পরিবারসহ সাজেকে বেড়াতে এসেছেন। প্রাকৃতি দুর্যোগের কারণে ঢাকায় ফেরত যেতে পারছেন না। অফিসের অনেক কাজকর্ম রয়েছে। ঠিক সময়ে যেতে না পারলে অফিসে সমস্যা হবে। তাই একটু মানসিক চাপে রয়েছেন। তাঁর মতো প্রায় ৬০০ পর্যটক বেড়াতে এসে আটকা পড়েছেন সাজেকে। এক থেকে দুদিনের ট্যুরে সাজেক এলেও এখন কবে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তা নিয়ে আছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। তিন দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণের কারণে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে মঙ্গলবার রাতে মাচালং এলাকায় সেতু ও সড়কের দুটি অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে গতকাল সকাল ৬টার দিকে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাজেকের সঙ্গে বাঘাইহাট ও দীঘিনালা সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রে ৬ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, সাজেকে আটকেপড়াদের জন্য রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের পক্ষ থেকে কক্ষ ভাড়া বিনামূল্য করে দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবহৃত পানি খরচের বিল দিতে হবে পর্যটকদের।
খাগড়াছড়িতে তলিয়ে গেছে সড়ক
পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক সড়ক তলিয়ে গেছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকা দিয়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশমাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মেরুং এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাতে ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের আরও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ
বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করছে প্রশাসন।
বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার জানান, সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১৯০টি পরিবারের ৭০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল
গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৬ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে তিন ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ১৩ জেলে
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তিনটি মাছ ধরা ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
চর বিজয়-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে গতকাল দুপুরে ছয়জন জেলেসহ একটি ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচ জেলের সন্ধান মেলেনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ফকিরহাট এলাকার ‘এফবি মহিমা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জন জেলে নিয়ে ডুবে যায়। ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, গত রোববার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
