✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।
জেলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাইফুরকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তবে ঘটনার সময় তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়ভাবে সাইফুর ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এমসি কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় তার প্রভাব ছিল। তার গ্রুপ টিলাগড় ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিনই তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয় অস্ত্র আইনে। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ২৬ মার্চ ভোরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহপরান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী ওই সময় জানিয়েছিলেন, সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন ও চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ের পর সাইফুর রহমানের পরিচয় ও অতীত কার্যকলাপ নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড, তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রমের সবশেষ পর্যায়- রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
