✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
গত চার বছরের কম সময়ে তিনি দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী এবং গত এক দশকে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব নেওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন। স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজা। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্নহ্যাম লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন। সেখানে তিনি সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন এবং পরে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।
মাত্র এক মাস আগে উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে এসেছিলেন সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহাম। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের উদ্যোগেই ওই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করার পথ তৈরি করা।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে স্টারমার লেবার পার্টির বহু সংসদ সদস্য এবং কয়েকজন মন্ত্রীর আস্থা হারান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নেতৃত্ব ছাড়তে বাধ্য হন।
লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতা নির্বাচিত হন এবং একই সঙ্গে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথও সুগম হয়। ফলে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জনসম্মুখে বিস্তৃত পর্যালোচনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে ঋষি সুনাকও একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তাঁর আগে তিনি লিজ ট্রাসের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং মন্ত্রিসভায় তাঁর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও ছিল।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৭ সালে তিনি পার্লামেন্ট ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তিনি আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ জুলাই) এক চিঠিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি।
চিঠিতে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে, লেবার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং যুক্তরাজ্যের (গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনার এই নির্বাচন আপনার দল এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী, ঐতিহাসিক ও বহুমুখী অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কমনওয়েলথ নীতি এবং জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাজ্য-প্রবাসী প্রাণবন্ত বাংলাদেশি সম্প্রদায় বন্ধুত্বের এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে চলেছে এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময়তায় অমূল্য অবদান রাখছে। আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং উভয় দেশ ও জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে সম্প্রসারিত করতে আমি আপনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমি আপনাকে সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনার সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং আপনার পদের গুরুদায়িত্ব পালনে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কামনা করছি। আমি যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। মহামান্য, অনুগ্রহ করে আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়টি গ্রহণ করুন।
সোমবার যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
