✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের রাতের ভোট হিসেবে বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
সবশেষ যুগ্ম সচিব (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন তারা।
সোমবার তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রত্যেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
সাবেক ডিসিদের মধ্যে চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ ও পাবনার মো. জসিম উদ্দিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহের সাবেক ডিসি সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস ও চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে থাকা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের তিন জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ২২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। তাদের মধ্যে তিনজন সচিব, ১৭ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন করে যুগ্ম সচিব ও উপসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৬টি প্রজ্ঞাপন জারি করে ৩৩ যুগ্ম সচিবকে ওএসডি করে রাখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বাধ্যতামূলক অবসরের পাঠানো ওই সময়ের ডিসিরা হলেন- খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার ডিসি মঈনউল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় এটি ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ নামে পরিচিতি পায়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’ রেখেছিলেন জনপ্রশাসনের এই আমলারা। তাদের অনেকেই ’২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। তাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিধান অনুযায়ী শিগগির বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা এতদিন ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ছিলেন।
