✍︎ পঞ্চগড় প্রতিনিধি ✍︎
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোত সীমান্তে তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে এনেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২-এর ১২ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ভারতের সীমান্তবর্তী অংশ থেকে বাংলাদেশের আখক্ষেতে প্রবেশ করলে ওই নাগরিককে ধরে আনা হয়।
আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে। বর্তমানে তিনি বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সুরক্ষায় হেফাজতে রয়েছেন।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অমরখানা ক্যাম্পের আওতাধীন বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় গত বুধবার সকালে হারানো গরু খুঁজতে যান বৃদ্ধ কৃষক তমিজ উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চাউলহাটি ক্যাম্পের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, তমিজ উদ্দিন বয়োবৃদ্ধ, কানে কম শোনেন এবং চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি চলে গেলে বিএসএফ তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরই জেরে শনিবার সকালে ভারতীয় চা বাগানের কর্মী দীপঙ্কর সীমান্তে কাজ করার একপর্যায়ে বাংলাদেশের আখক্ষেতে ঢুকলে সীমান্তবাসী তাকে ধরে নিয়ে আসে।
তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী বলেন, ‘আমার বাবা বয়স্ক ও কানে কম শোনেন। গরু খুঁজতে গেলে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা আমার বাবাকে ফেরত চাই। বাবাকে ফিরিয়ে দিলেই আমরা এই ভারতীয় নাগরিককে ছেড়ে দেব।’
এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, বাংলাদেশি নাগরিককে ইতোমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিজিবি এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও কাগজপত্র দেখতে চাইলে বিএসএফ প্রতিনিধিরা জানান, আটক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত দিলে সেই কাগজপত্র দেখানো হবে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ জানান, বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্যটি স্থানীয়রা প্রথমে বিজিবিকে অবহিত করেনি। পরে ভারতীয় নাগরিক আটকের ঘটনায় বিএসএফ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সামনে আসে। বিএসএফ দাবি করেছে, বাংলাদেশি নাগরিককে কাঁটাতার কাটার অভিযোগে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া পুলিশ পরিচালনা করছে।
