✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই নেতা বলেন, মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্তের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান।
বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত এককভাবে তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তার সিদ্ধান্তের কথা জানেন না। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন, ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে দলটি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দেয়। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর আগামী ২০ আগস্ট ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে।
সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এক দিনের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করবেন। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে নির্ধারিত ভোটের সাত দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠক আহ্বান করবেন। তবে এই বৈঠককে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন হিসেবে গণ্য করা হবে না।
তবে মির্জা ফখরুল একমাত্র বৈধ প্রার্থী হলে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হতে পারে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল দায়িত্ব নিলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়া ফখরুল ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব হন।
