যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে। 

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে, সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সার আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায়। তারই অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এ ছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিটি। তাতে প্রতি মেট্রিক টন চালের দাম পড়বে ৪৩৬ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ১ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠান নাবিল ফুডস থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি টন সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করা হয়। টিসিবির জন্য এসব ডাল ও তেল কেনার প্রস্তাব এসেছে মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রায় ৩২১ কোটি টাকা খরচ করে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব ট্যাব সরবরাহ করবে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। এ ছাড়া ফেনী সড়ক বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পুনঃদরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে বৈঠকে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, কৃষি, খাদ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় মোট ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *