✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ভারতের কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে তারা জানতে পেরেছে। বাকিদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন এবং তাদের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলীও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দেবাশীষ দত্তের পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত অপর বাংলাদেশির নাম আহমেদ বাবু। তার বাড়ি ঢাকার আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে।
এছাড়া আগুনে নিহত একজন ভারতীয়র পরিচয়ও জানা গেছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানে।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান জানিয়েছেন, দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দেবাশীষ দত্তের পরিবার জানিয়েছে, তার স্ত্রী আফসানা অসুস্থ ছিলেন। আফসানার চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট তারা ভারতে যান। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে মাত্রই গতকাল কলকাতায় আসেন। দেশে ফেরার আগে ওই হোটেলে ওঠেন তারা। সেখানেই মর্মান্তিক মৃত্যু হলো তাদের।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অসুস্থ স্ত্রী আফসানা শারমীনের চিকিৎসার জন্য ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। ১৩ দিনের চিকিৎসা শেষে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাঁরা কলকাতায় ফেরেন। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষ দত্তের কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা তাঁর বন্ধু ও সাংবাদিক তৌহিদী হাসান জানান, দেবাশীষের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। খবরটি জানার পর পরিবারের সদস্যরা শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি।
দেবাশীষ দত্তের আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাঁর মা-বাবাও জীবিত রয়েছেন।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আজ বুধবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির একজন সাভারের আহমেদ বাবু (৪০)। বাবুর মৃত্যুর খবরে আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
আহমেদ বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে। তিনি কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। আমিনবাজার জমিদার মার্কেটে তাঁর ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে একটি দোকান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার কাজে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার কলকাতায় যেতেন বাবু। সবশেষ গত সোমবার সড়কপথে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে কলকাতায় যান তিনি।
আজ দুপুর নাগাদ বাবুর মৃত্যুর খবর সাভারে পৌঁছালে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এমন একটি দুর্ঘটনায় যে তাঁকে চিরতরে হারাতে হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।
বাবুর স্বজনেরা জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি তাঁর ছিল গভীর টান। ব্যবসার প্রয়োজনে বাইরে থাকলেও নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কলকাতা থেকে ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ছিল তাঁর। সেই অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হলো না।
বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহিম বলেন, বাবুর জীবিত ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবার এখন তাঁর লাশের অপেক্ষায় রয়েছে । তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী বুবলী। তিনি বলেন, ‘তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে আর সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট ছেলেটি এখনো হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর জীবিত ফিরে আসবেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শূন্যতাই একসময় তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠবে।’
